বিজ্ঞ হাই কোর্টের আদেশ উপেক্ষা করে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে বুজরুক জামালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ২ শিক্ষকের এমপিওভুক্তি নিয়ে চলছে তেলেসমাতি কারবার। নিয়োগের ২০ বছর অতিবাহিত হলেও অদ্যাবধিও এমপিওভুক্তি না হওয়ায় ২ শিক্ষকের মানবেতর জীবন যাপন।
ঘটনার আদ্যোপান্ত ও অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বুজরুক জামালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিধি মোতাবেক ২০০৩ সালে মেহেদী হাসান (কম্পিউটার/তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) ও আলো রাণী (হিন্দু ধর্ম) নিয়োগ প্রাপ্ত হন। এর পর যোগদান পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠান প্রধান এমপিও আবেদন করেন। এর এক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং প্রতিষ্ঠান প্রধান সাময়িক বরখাস্ত হওয়ায় নব যোগদানকারী ওই শিক্ষকরা এমপিও বঞ্চিত হন। আবার ২০০৬ হতে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসনামলে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও কার্যক্রম স্থগিত থাকে। ২০১০ সালের পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠান নবায়ন না থাকায় ২০১৫ সাল পর্যন্ত এমপিও আবেদন প্রেরণ সম্ভব হয়নি। ২০১৮ সালে স্বীকৃতি নবায়ন হওয়ায় এমপিও আবেদনের প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হলে পরবর্তী সময়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম এমপিও প্রেরণের জন্য আবেদন করেন। তবে এ সময়ের প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির অসহযোগীতার কারণে পরবর্তীতে আর প্রেরণ করেননি। যার প্রেক্ষিতে এমপিও বঞ্চিত ওই ২ শিক্ষক মানবেতর জীবন-যাপন করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তারা বিজ্ঞ হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। যার রিট পিটিশন নম্বর ৬৭২৩/২০২১। এ প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ হাই কোর্ট গত ০১-০৯-২০২১ তারিখের শুনানিতে এমপিও প্রদানের আদেশ জারি করেন। আদেশ প্রাপ্তির পর গত ২৬-১১-২০২৩ তারিখে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ওই ২ শিক্ষকের এমপিও ভুক্তির জন্য পূনরায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রংপুর অঞ্চল এর উপ-পরিচালক বরাবরে আবেদন পত্র পেশ করেন।
পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম গত ১৭-১২-২০২৩ তারিখে গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবরে অপর একটি আবেদন পত্র পেশ করেন। আবেদনে বলা হয়, নিয়োগ প্রাপ্ত ওই ২ শিক্ষক বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ও বিদ্যালয়ের পাসওয়ার্ড ছল চাতুরী করে (অনলাইন নিউ এমপিও ফাইল) আবেদন করেন। বর্তমান কমিটির কোন প্রকার রেজুলেশন প্রদান করা হয় নাই। এমনকি প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির স্বাক্ষর জাল জালিয়াতির মাধ্যমে উক্ত ফাইল ২টি প্রেরণ করা হয়েছে। তাই ফাইল ২টি স্থগিত করার জন্য বলা হয়।
এবিষয়ে, গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা অফিসার রোকসানা বেগম জানান, আমি এ বিষয়ে তেমন কিছু জানি না। ওই ২ শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসেন না। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক একটি আবেদন দিয়েছেন। আবেদনে এমপিও স্থগিতের বিষয়ে বলা হয়েছে। আপনারা কমিটির সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলেন।
এমপিও ভুক্তির বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চলছে আলোচনা সমালোচনার ঝড়। অনেকেই বলছেন, ওই ২ শিক্ষক যদি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে (অনলাইন নিউ এমপিও ফাইল) আবেদন করে থাকেন তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কি করে ইতোপূর্বে ২ দফা এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করলেন? তৃতীয় দফায় এমপিও স্থগিতের আবেদন করার নেপথ্য রহস্যই বা কি? পাসওয়ার্ড প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়ন্ত্রণ করেন। এটি প্রতিষ্ঠানের গোপনীয় বিষয়। এটি অন্য কেউ পেতে পারেন না। যদি পাসওয়ার্ড ওই ২ শিক্ষক ব্যবহার করে তাকেন তবে প্রতিষ্ঠান প্রধানের উচিত ছিল তাৎক্ষনিক থানায় সাধারণ ডায়েরি করে ব্যবস্থা নেয়া। বিজ্ঞ হাই কোর্ট যেখানে এমপিও নিশ্চিত করতে আদেশ দিয়েছেন সেখানে এই আদেশ অবজ্ঞা করা মানে আদালত অবমাননার শামিল। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধান কিংবা অন্য কারো গাফিলতি থাকলে তা জেলা শিক্ষা অফিসার খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে পারতেন। শুধু তাই নয়, এমপিও কার্যক্রমে যদি জাল জালিয়াতির আশ্রয় নেয়া হয়ে থাকে এ বিষয়েও ব্যবস্থা নিতে পারতেন।
এসব কিছু না করে নিশ্চুপ থাকা বিষয়টি প্রশ্ন বিদ্ধ।
যোগাযোগ করা হলে রংপুর বিভাগীয় উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) শফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।