মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২:৪৪ অপরাহ্ন
নোটিশ :

জেলা/উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ : সাপ্তাহিক গাইবান্ধার বুকে পত্রিকার জন্য গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থান/এলাকায় প্রনিতিধি নিয়োগ দেয়া হবে। আগ্রহীরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পাসপোর্ট সাইজের এক কপি ছবিসহ সরাসরি অথবা ডাকযোগে সম্পাদক বরাবর আবেদন করুন। প্রকাশক ও সম্পাদক, সাপ্তাহিক গাইবান্ধার বুকে , গোডাউন রোড, কাঠপট্টী, গাইবান্ধা। ফোন: : ০১৭১৫-৪৬৪৭৪৪, ০১৭১৩-৫৪৮৮৯৮

গাইবান্ধায় প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের দায়ে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

স্টাফ রিপোর্টার / ৩৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৪, ৪:৫০ পূর্বাহ্ন

গাইবান্ধায় ‘সমন্বিত পল্লী দারিদ্র দূরীকরণ’ প্রকল্পের ১ কোটি ৮৫ লক্ষ ৮৯ হাজার টাকা আত্নসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প পরিচালকের স্বাক্ষর স্ক্যান করে টাকা ব্যক্তিগত হিসাবে নিয়ে এ আত্নসাতের ঘটনা ঘটে। ঘটনার দায়ে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আনিছুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাকে লাখাই হবিগঞ্জের বিপরীতে হবিগঞ্জ জেলা দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

গাইবান্ধা বিআরডিবি উপ-পরিচালকের কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ আবদুস সবুর কর্তৃক স্বাক্ষরিত অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধার সাঘাটার সহকারী পল্লী উন্নয়ন অফিসার আনিছুর রহমান(ই-৩৫৮২) ১৯-১২-২০২৩ তারিখ হতে ২০-০৭-২০২৩ তারিখ পর্যন্ত বিআরডিবি গাইবান্ধার জেলা দপ্তরে হিসাব রক্ষক এবং জেলায় বিআরডিবি কর্তৃক বাস্তবায়িত সমন্বিত পল্লী দারিদ্র্য দূরীকরণ প্রকল্পের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (অঃতিঃ) পদের দায়িত্ব পালন করেন।

আনিছুর রহমান এ দায়িত্ব পালনকালে গত ২০-০৬-২০২৩ তারিখে প্রকল্প পরিচালকের স্বাক্ষর স্ক্যান করে প্রকল্পের ব্যাংক হিসাব নম্বর হতে ২ লক্ষ ১২ হাজার ৭৭ টাকা ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব নম্বরে স্থানান্তরের একটি পত্র ব্যাংকে প্রেরণ করেন। বিষয়টি ধরা পড়লে প্রকল্প পরিচালক হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আনিছুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। সেই সাথে অফিস আদেশে একটি অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা দল গঠন করেন।

নিরীক্ষা দল তদন্তকালে দেখতে পান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আনিছুর রহমান অনিয়ম জালিয়াতিতে এখানেই ক্ষ্যান্ত নন। একই পন্থায় গত ২৭-০২-২০২৩ তারিখে স্থায়ী আমনতের অর্থ ৯ লক্ষ ৭৪ হাজার ৯’শ ৬০ টাকা সুদসহ ভেঙ্গে ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব নম্বরে স্থানান্তর করেন। গত ৩০-০৬-২০২২ তারিখে গ্রাচ্যুইটি হিসাবের অর্থ ৩৮ হাজার ৮’শ ৪৯ টাকা প্রকল্পের কর্মচারীদের গ্রাচ্যুইটি হিসেবে স্থানান্তর দেখানো হয়। যা হিসাবরক্ষক আনিছুর রহমান ব্যক্তিগত হিসাব নম্বরে স্থানান্তর করেন। নিরীক্ষা প্রতিবেদন মোতাবেক জ্ঞাত হয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরত চাওয়া হয়। এ প্রেক্ষিতে আনিছুর রহমান গাইবান্ধা সমন্বিত পল্লী দারিদ্র্য দূরীকরণ প্রকল্পের আত্মসাৎকৃত অর্থের আংশিক হিসেবে পর পর ৫ লক্ষ টাকা করে ২টি চেক প্রদান করেন।

উল্লেখিত ২টি চেকে সংশ্লিষ্ট হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় নগদায়ন করা সম্ভব হয়নি। এভাবে নিরীক্ষা দলটি ২০১৩-২০১৪ অর্থবছর হতে সাবেক হিসাবরক্ষক আনিছুর রহমানের কর্মকাল পর্যন্ত নিরীক্ষা সম্পন্ন করেন। নিরীক্ষার প্রতিবেদন মোতাবেক মোট ১ কোটি ৭৫ লক্ষ ৭৫ হাজার ৫’শ টাকা আত্নসাৎ উদঘাটিত হয় ( গাইবান্ধা সমন্বিত পল্লী দারিদ্র্য দূরীকরণ প্রকল্পের ১০ লক্ষ ১৩ হাজার ৮’শ ৯ টাকা ব্যতিত)। যা আনিছুর রহমানের ১২ বছর চাকরী জীবনে অর্জিত আয়ের সঙ্গে দৃশ্যমান সম্পদের বিস্তর পার্থক্য রয়েছে।

আনিছুর রহমান জানান, যৌথ স্বাক্ষরে সব হিসাব পরিচালিত হতো। আমি প্রকল্পের অধীন কর্মচারী। প্রকল্প পরিচালক এই টাকা আমার হিসাব নম্বরে নিয়ে উত্তোলন করে তাঁকে দেয়ার চাপ দেন। এতে আমি আপত্তি জানালে তিনি ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। পরে আমি বাধ্য হয়ে আমার হিসাব নম্বরে টাকা নিয়ে উত্তোলন করে প্রকল্প পরিচালকের হাতে দেই।

প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আবদুস সবুর বলেন, আনিছুর রহমানের অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন। স্বাক্ষর জাল করে তিনি টাকা আত্মসাৎ করেন। যার প্রমান নিরীক্ষা টিম পেয়েছে। এ ছাড়াও টাকা আত্নসাতের বিষয়টি আনিছুর রহমান নিজেও নিরীক্ষা টিমের সামনে লিখিতভাবে স্বীকার করেছেন। এ জন্য তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সেই সাথে তদন্ত চলমান রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর