ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদীতে বাবা-ছেলেসহ নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে। এছাড়া অন্তত শতাধিক মানুষ আহতের খবর পাওয়া গেছে।
মৃতরা হলেন- দেলোয়ার হোসেন (৩৭) ও তার ছেলে ওমর ফারুক (৮), কাজম আলী ভূঁইয়া (৭০), নাসির উদ্দিন (৫০) এবং ফোরকান মিয়া।
শহরের গাবতলী এলাকায় ছয়তলা নির্মাধীন ভবনের দেয়াল ধসে একতলা ভবনের উপর পড়লে বাড়ির মালিক দেলোয়ার, ছেলে ওমর ও মেয়ে তাসফিয়া আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাবা-ছেলেকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ঢাকায় নেওয়ার পর বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়।
নরসিংদীর পলাশ উপজেলার মালিকা গ্রামে মাটির ঘরের দেয়ালচাপায় কাজম আলী (৭৫) নামে এক বৃদ্ধা মারা গেছেন বলে জানা যায়। কাজম আলী উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের মালিতা পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন তার চাচাতো ভাই আউয়াল মিয়া।
এছাড়া পলাশের ডাঙ্গা কাজিরচর এলাকায় সিরাজ উদ্দিনের ছেলে নাসির উদ্দিন (৬৫) ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে হার্টঅ্যাটাক করে মারা গেছেন।
শিবপুর জয়নগর ইউনিয়নের আশকিতলা গ্রামে ভূমিকম্পের সময় গাছে উঠে ডাল কাটছিলেন ফোরকান। এ সময় গাছ থেকে পড়ে আহত হন তিনি। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে সারা দেশের মতো নরসিংদীতেও ভূমিকম্প অনুভব হয়। এ সময় পুরো জেলা কেঁপে উঠে। বিশেষ করে পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল ও নরসিংদী শহর। এ সময় মানুষ আতঙ্কে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি করতে থাকেন।
এদিকে ঘোড়াশাল এলাকায় ৬টি বাড়ি ও এসএ প্লাজা নামে একটি ৭তলা বিশিষ্ট শপিংমলে ফাটল ধরে। এছাড়া ঘোড়াশাল বাজার এলাকার বিভিন্ন ভবনের ছাদ থেকে দেয়ালের ইট পড়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়। পলাশ রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের আঙিনায় মাটি দেবে যায়।
নরসিংদীর পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম দুপুরে গাবতলী এলাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি বলেন, ভূমিকম্পে জেলায় অর্ধশতাধিক আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। যেকোনো দুর্যোগে জেলা পুলিশ সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে। পুলিশ তাদের নিরাপত্তায় সচেষ্ট রয়েছে।